বাণী রিপোর্ট : নরসিংদী পৌর শহরের ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জেলখানার উত্তর পাশে^র্ ডিসি রোডে অবস্থিত নরসিংদী পৌর সভার মূল্যবান দোতলা ভবন। ভবনের কয়েকটি দোকান কনসালটিং ফার্মের নামে, নাম মাত্র মাসিক ভাড়ায় নিয়ে অন্য ব্যসায়ীদের কাছে মোটা অংকের টাকায় অগ্রীম ও ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে ভোগদখল করছেন ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম। পৌর সভার নিয়ম নীতি ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, ভবনের নীচতলায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা অগ্রীম নিয়ে এবং মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকায় একটি ঔষুধের ফার্মেসীকে ভাড়া দিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জহিরুল ইসলাম এম অভিযোগ সচেতন পৌরবাসীর। দোতলায় রয়েছে জহিরুল ইসলামের মালিকানাধীন প্লান ভিউ কনসালটিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম ও অন্য একজন ভাড়াটিয়া। সূত্র জানায় ৫ আগষ্টের পর নিজেকে জামাত নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে মাসিক মাত্র ৩ হাজার ৭০ টাকায় ভবনটি ভাড়া নেয় জহির। পরে মোটা অংকের টাকা অগ্রীম নিয়ে কয়েকটি দোকান ভাড়া দিয়ে পুরো ভবনটি ভোগদখল করে যাচ্ছেন নরসিংদী ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্ট কনসালটিং ফার্ম এসোসিয়েসনের কথিত সভাপতি ইঞ্জিঃ জহিরুল ইসলাম। শুধু তাই নয় পৌর সভার সাথে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভবনটি ভাড়ার চুক্তি করা হলেও জহির চুক্তিপত্রে ঘষামাজা করে জালিয়াতির মাধ্যমে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত লিখে নেয়। এতে নরসিংদী পৌরসভা হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা মাসিক ভাড়া ও অগ্রীম টাকা। এ ব্যপারে সুষ্ঠু তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে অভিযোগের সত্যতা।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, প্লান ভিউ কনসালটিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম ব্যবসার আড়ালে নরসিংদী পৌর এলাকার ভবনের প্লান পৌরসভা থেকে প্রভাব খাটিয়ে পাশ করিয়ে ভুমির মালিকদের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। পৌর সভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে ঘুষ দেয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিচ্ছে জহির। অথচ ৫ আগষ্টের ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর নিজেকে জামাত নেতা পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভবনের প্লান পাশ করিয়ে নিচ্ছেন।
ইঞ্জি: জহিরের অবৈধ তদ্বিরের মাধ্যমে বিল্ডিং নির্মাণের ফাইল অনুমোদন না দেয়ায় নরসিংদী পৌরসভার সদ্য বিদায়ী প্রশাসককে মব সৃষ্টি করে নাজেহাল করার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৮ আগষ্ট) নরসিংদী পৌরসভার প্রশাসক নাদিরা আক্তার বদলিজনিত কারণে চার্জ বুুঝিয়ে দেয়ার মূহুর্তে মব সৃষ্টি করে বিল্ডিং নির্মাণের অনুমোদন আদায়ের চেষ্টা চালান প্লান ভিউ কনসালটিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের মালিক জহিরুল ইসলাম। জহিরুল ইসলাম ২০/২৫ যুবককে সাথে নিয়ে ওই প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ সরকারী কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে বিব্রত হয়ে প্রশাসক অশ্রুসজল নয়নে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান কনসালটিং ফার্মের মালিক ও নরসিংদী প্রাইভেট কনসালটিং ফার্মে এসোসিয়েসনের কথিত সভাপতি জহিরুল ইসলাম ২০/২৫ জনসহ প্রায় ২০টি নির্মাণ বিষয়ক ফাইল নিয়ে প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করে তা অনুমোদনের জন্য প্রশাসককে চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি তদন্ত ব্যতিত অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পৌর কর্মচারী ও অন্যান্যদের সামনে নাজেহাল করেন। তারা আরো জানান, যে ব্যাক্তি বিল্ডিং নির্মাণ করবেন তিনিই পৌরসভার অনুমোদন নিতে আসার কথা থাকলেও বিভিন্ন ফার্মের পক্ষ থেকে জহিরুল ইসলাম আসেন অনুমোদনের জন্য। এতে স্পস্টত: বুঝা যায় তিনি কাষ্টমারের পক্ষে দালালি করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে থাকেন। এ সব অনিয়ম ও প্রশাসককে মব সৃষ্টি করে নাজেহালে করার বিচার দাবী করেছেন পৌরসভার সচেতন নাগরিক সমাজ। এদিকে মব সৃষ্টি ও প্রশাসককে নাজেহাল করার পর ইঞ্জি: জহিরুল উল্টো পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।
জহিরুল ইসলামের অপকর্মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে এসোসিয়েশনের ৯টি ফার্মের প্রকৌশলীগণ এসোসিয়েশনের সভাপতি জহিরুল ও সাধারণ সম্পাদকের অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিকার চেয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন “নরসিংদী পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে আমরা নিন্ম স্বাক্ষরকারীগণ অবগত ও একমত নই। অন্যায়ভাবে কোন সম্মানিত ব্যক্তির সম্মানহানি করো আমরা কোনভাবেই সমর্থন করি না। উক্ত ঘটনায় আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এ অবস্থায় নরসিংদী পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও একজন নারী কর্মকতার্কে নাজেহাল এবং তার সাথে চরম অশালীন আচরণ ও পৌরসভার দোকান ভবন মোটা অংকের টাকা অগ্রীম নিয়ে অন্যত্র ভাড়া দিয়ে অনিয়ম জড়িত থাকার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে পৌর নাগরিক সমাজ।