বাণী রিপোর্ট : নানা অনিয়ম দুণীর্তিতে আকুণ্ঠ নিমজ্জিত নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এসব দুণীর্তির মহানায়ক হাসপাতালে সর্বোচ্চ পদধারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাদি মো: আতিকুল ইসলাম ও ডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী এনায়েত হোসেন। প্রশাসনিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো চালাচ্ছেন হাসপাতালটি। ভূয়া বিল ভাউচার এর মাধ্যমে কাজ না করেই সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দুই মহারথি। এমন অভিযোগ সচেতন ও অভিজ্ঞ মহলের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাদি মো: আতিকুল ইসলাম মাসের অধিকাংশ সময় তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। সপ্তাহে মাত্র ২ থেকে ৩ দিন হাসপাতালে আসেন। নানা অজুহাতে ছুটি না নিয়েই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। গত প্রায় এক মাস যাবত তিনি হাসপাতালে অনুপস্থিত। তার পরিবর্তে প্রশাসনিক কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকেন ডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী এনায়েত হোসেন। হাসপাতালের পদধারী প্রধান সহকারী আমিনূল ইসলাম কর্মরত থাকলেও দুণীর্তির সকল কাজ করিয়ে নিচ্ছেন এনায়েত হোসেনের মাধ্যমে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রতিদিন ভর্তিকৃত রোগীর অতিরিক্ত ৫জন ভূয়া রোগীর নাম তালিকায় অন্তভূর্ক্ত করে ৫টি খাবারের টাকা বিল ভাউচারের মাধ্যমে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের নিকট থেকে হাতিয়ে নেন। প্রতিটি খাবারের মূল্য ১৭৫ টাকা হিসেবে প্রতিমাসে প্রায় ২৬ হাজার টাকা তিনি পকেটস্থ করছেন।
গত অর্থবছরের জুন/২৬ ক্লোজিংএ হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার বরাদ্দকৃত ৬ লাখ টাকা কোন প্রকার কাজ না করেই ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাত করেন এই কর্মকর্তা। এদিকে আবর্জনা পরিষ্কার না করায় হাসপাতাল কমপ্লেক্সটি ময়লাযুক্ত জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। একই অর্থবছরের ক্লোজিং মাসে একই প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের বিলের নামে আত্মসাত করেন প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.কাদি মো: আতিকুল ইসলাম বলেন, নিয়ম মেনেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে কোন টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। তবে খাবারের টাকার বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
ডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী এনায়েত হোসেন, তার কর্মস্থল ছেড়ে প্রায় দুই বছর যাবত প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধান সহকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ও হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে তদারকী করছেন। তার এহেন কর্মকাণ্ডে হাসপাতালে কর্মরত কর্মকতার্ কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে মুখ ফুটে কেউ বলতে পারছেন না। তার অনধিকার তদারকির কারণে হাসপাতালের স্টাফরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেনা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টরা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।