নিজস্ব সংবাদদাতা : এলজিআরডি মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে চরম নিন্মমানের নিমার্ণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছেন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি আলম মোল্লা। খোদ মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা নির্মাণের এমন দুর্দশা দেখে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, সচেতন এলাকাবাসী এ বিষয়টি স্থানীয় মন্ত্রীর দৃষ্টিগোর করার জন্য সাংবাদিকদের আহবান জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘোড়াশাল থেকে দড়িহাওলা পাড়া পর্যন্ত ১৮০০’শ মিটার কার্পেটিং রাস্তার টেন্ডারে কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইউনূছ এন্ড ব্রাদার্স। রাস্তাটির টেন্ডার মূল্য ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের ঠিকাদার কাজ পেলেও মূলত: কাজ করছেন বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার আলম মোল্লা। ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে কাজ শুরুর পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক এক দিনের জন্যও সাইডে আসেননি। এদিকে রাস্তা নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, তারা আলম মোল্লার অধীনে কাজ করছেন।
রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে গুড়া হয়ে যাওয়া ইটের কংক্রিট। রাস্তার দু’পাশের এজিংয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে দেখলেই বুঝা যায় কংক্রিটগুলো কতটা নিন্মমানের। বিএনপি নেতার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে স্থানীয়রা এমনকি তদারকির কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান পলাশ উপজেলা প্রকৌশলী পর্যন্ত মুখ খুলছেনা।
এ ব্যপারে পলাশ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, রাস্তার কাজে নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে খবর পেয়ে আমি কাজ পরিদর্শন করি কিছু সামগ্রী তাৎক্ষণিক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেই। আমার অফিসের কাছে হওয়ায় প্রতিদিন আমি রাস্তাটি পরিদর্শন করি। অর্ধেক ভাঙ্গা ইট দিয়ে রাস্তার দুই পাশের এজিং দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন বিষয়টি আমি দেখবো, যদি এমন হয়ে তবে নতুন করে করাবো।
নরসিংদী জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা জানান, রাস্তা নির্মাণে নিন্মমাণের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই। সঠিকভাবে নির্মাণকাজ তদারকীর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রকৌশল বিভাগ ভালো কাজের নিশ্চয়তা দিলেও হচ্ছে তার উল্টো, নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক এখানে কাজ করছেন না, কাজ করছেন বিএনপি নেতা প্রভাবশালী ঠিকাদার আলম মোল্লা, তার কাজের তদারকী থানা ইঞ্জিনিয়ার করবে তার ঘাড়ে কয়টা মাথা! আলম মোল্লা ফ্যাসিস্ট আমলে ছিলো তাদের দোসর। প্রকাশ্যে মেয়র তুষার এর নির্বাচনী প্রচারনায় নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এখন তিনি ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি ও প্রভাবশালী নেতা, উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত তার দাপট। অফিস আদালতে আলম মোল্লা এলজিআরডি মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন। তিনি নিজেকে মাননীয় মন্ত্রীর ডান হাত বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এসব মন্ত্রী মহোদয় জানেন কিনা বলতে পারবো না।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল নিন্মমানের কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে এ ব্যপারে প্রশাসন ও মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।