শিরোনাম :
নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওন গ্রেপ্তার  পলাশে ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন নরসিংদী প্রেস ক্লাবের নব-নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের শপথ গ্রহণ রায়পুরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার শিবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি পদে-আসাদ ও মাহবুব খান সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত নর্রসিংদীর ৫টি আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন ৪৬ জন প্রার্থী শিবপুরে মনোনয়ন জমা দিলেন বিএনপির প্রার্থী মন্জুর এলাহী ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পলাশ থানা পুলিশ রায়পুরা আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জামাল আহমেদ চৌধূরী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কাঁদছে বাংলাদেশ
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

রায়পুরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

Reporter Name
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

মাহবুব আলম লিটন : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উক্ত অভিযানের বিস্তারিত জানাতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী) দুপুরে রায়পুরা থানায় প্রেস বিফ্রিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে গণমাধ্যমের সামনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, পিএসসি।
এসময় নরসিংদী পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল্লাহ আল-ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ রানা সহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিফ্রিংয়ে রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, পিএসসি জানান, ০৭ জানুয়ারী সকালে রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, পিএসসি এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম, রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাশেদ বিন মনসুর এর নেতৃত্বে নরসিংদী জেলা পুলিশের একটি টিম ও রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদ রানারসহ রায়পুরার চারাঞ্চলের ইউনিয়নসমূহে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নিমিত্তে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর ও নওয়াবপুর এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কতিপয় সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে সায়দাবাদ গ্রামের মোঃ জালাল উদ্দিনের ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার ইকবাল ওরফে আকবর (৩৫) ও তোতা মিয়ার ছেলে মোঃ জালাল উদ্দিন (৫৫)কে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের হেফাজত হতে বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র-সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রগ্রলো হলো: এক নলা বন্দুক- ০২ টি, দেশীয় ওয়ান শুটার গান- ০১ টি, রামদা- ০১ টি, ডেগার- ০২ ৫, ছুরি- ০৪ টি, চাপাতি- ০২ টি, কার্তুজ- ৮ টি, ০৭.৬২ মিমি চায়না রাইফেলের গুলি (৫০ রাউন্ড) ইঙঋ লেখা, দেশীয় বোমা- ০৩ টি, পটকা- ১১ টি, বেøড যুক্ত ছ্যাকু- ০১ টি, ছোট ব্যাগ- ০১ টি, বন্দুকের কভার- ০২ টি, বাটন মোবাইল- ১৫ টি, অ্যান্ডয়েড মোবাইল সেট- ০৫ টি, রচযড়হব- ০১ টি, ক্যাপলেস ম্যানিব্যাগ- ০১ টি, একটি এনআইডি কার্ড, ডেগার কভার- ০১ টি।
অপর একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন বালুঘাটা গ্রামের আকবর আলী ওরফে ভেড়ার বাড়ির লাকি বেগম এর কচু ঘরে বোমা কালাম ও আগ্নেয় বোমাসহ অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ অবস্থান করছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে বালুঘাটা গ্রামের আকবর আলী ওরফে ভেড়ার বাড়ির লাকি বেগম এর কচু ঘরে বোমা কালামের আখড়ার সিলিং এর উপর হতে ০১ টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ০২ টি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইকবাল ওরফে আকবর (৩৫) এর বিরুদ্ধে ৩ টি হত্যা মামলা, ০১টি অস্ত্র আইনের মামলাসহ সর্বমোট ১১টি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী মোঃ জালাল উদ্দিন এর বিরুদ্ধে ০২ টি হত্যা মামলাসহ মোট ০৪টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উক্ত ঘটনার সংক্রান্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নজরদারি অব্যাহত আছে।

স্থানীয়রা জানায়, যৌথ বাহিনী অভিযান শেষে এলাকা ছেড়ে চলে আসলে সন্ত্রাসী শাহ আলম ও তার বাহিনীর সদস্যরা সন্ধ্যার পর অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে সায়দাবাদ স্কুল মাঠে জড়ো হয়ে। সন্ত্রাসীরা বোমা ফাটিয়ে ও ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এতে নিরীহ গ্রামবাসী দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে।

প্রায় একমাস পূর্বে র ্যাব সদস্যরা সায়দাবাদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইকবালকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে, এসময় আরো ৭জনকে ৫টি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করে সন্ত্রাসীদের নিয়ে নৌকায় উঠলে সন্ত্রাসী ইকবাল হাতে হ্যান্ডকাফ সহ পানিতে লাফিয়ে পড়ে। পালিয়ে যেতে থাকলে  র ্যাব সদস্যরা তাকে ধরতে এগিয়ে গেলে নদীর তীরে অবস্থানরত ইকবালের সতীর্থ সন্ত্রাসী শাহ আলম গ্রুপের লোকজন র ্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি, ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ অবস্থায় অন্যান্য আসামিদের নিয়ে র ্যাব চলে গেলে ইকবাল নদী থেকে উঠে এলাকায় ফিরে আসে। এ ঘটনায় এলাকার জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় । স্থানীয়রা জানায় ২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর অস্ত্রধারী আওয়ামী সন্ত্রাসী শাহ আলম বাহিনী আধিপত্য বিস্তার করতে সায়দাবাদ গ্রামে প্রতিপক্ষের ৮জন নিরস্ত্র নারী শিশুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে । চাকুরীজীবি প্রবাসীদের  দেড় শতাধিক পরিবারের বাড়ি ঘর ভাংচুর মালামাল লুট করে বসতঘর পুড়িয়ে দেয়। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় শত শত পরিবার। সাধারণ নিরীহ মানুষ যারা গ্রামে রয়েছে তাদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় শাহ আলম বাহিনীকে। সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে গ্রামে আসতে ভয় পাচ্ছে কর্মজীবী লোকজন। এসব সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে নিরীহ শান্তিপ্রিয় গ্রামবাসীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category