নিজস্ব সংবাদদাতা : নরসিংদী সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের চরদিঘলদী ইউনিয়নে গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কাবিখা, কাবিটা (খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ) ও টিআর প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে প্রকল্পের কাজ দেখালেও বাস্তবে তার কোনো চিহ্ন নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নে একাধিক প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৯৮১ টাকা এবং ১৪.৮০০ মেট্রিক টন গম এবং ১৪.৮০০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে বাধ্যতামূলক সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। এ অনিয়মের সঙ্গে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও চরদিঘলদী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসাঃ সেলিনা আক্তার জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কাবিখা, কাবিটা (খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ) ও টিআর প্রকল্পে চরদিঘলদী ইউনিয়নে ছিল ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৯৮১ টাকার কাজ হয়েছে। এছাড়া রাস্তা নির্মাণের জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ১৪.৮০০ মেট্রিক টন গম এবং ১৪.৮০০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে প্রকল্পগুলো পরিদর্শনে দেখা যায়, বরাদ্ধ অনুযায়ী যে পরিমাণ কাজ হওয়ার কথা তার অর্ধেক কাজও হয়নি।
এব্যাপারে উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি পুনরায় সরেজমিনে দেখার আহবান জানান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বামীর সাথে কথা বলতে অনুরোধ করেন।
কাজ না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনার কাছে প্রথম শুনলাম এ প্রকল্পগুলো সম্পর্কে। এর পূর্বে আমার কাছে কেউ কমপ্লিন করেনি। আমি পিআইও এর সাথে কথা বলব এবং প্রকল্পগুলো দেখে ব্যবস্থা নিব।